গণআর্কাইভ · প্রামাণ্য নথিপত্র
বিচার বিভাগের দলীয়করণ: কীভাবে আদালতকে পরিণত করা হয়েছিল বিরোধী দল দমনের হাতিয়ারে
অনুসন্ধানী ওয়াচডগ • বিচার বিভাগ দখল
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে রূপান্তর করা হয় একদলীয় শাসন টিকিয়ে রাখার প্রধান প্রশাসনিক হাতিয়ারে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর প্রধান বিচারপতিকে জোরপূর্বক অপসারণ এবং ‘গায়েবি মামলা’র কারখানা চালুর মাধ্যমে আদালতকে বিরোধীদের কারাগার বানানোর অস্ত্রে পরিণত করা হয়।
১. প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বলপূর্বক অপসারণ
২০১৭ সালের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সর্বসম্মতভাবে বাতিল করে। রায়ে বলা হয়, বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস হবে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রায়ে লেখেন— “কোনো দেশ কোনো একক ব্যক্তির দ্বারা বা একক ব্যক্তিমালিকানাধীন হতে পারে না”।
এর পরপরই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিশোধ নেমে আসে:
- প্রধান বিচারপতিকে নিজ বাসভবনে গোয়েন্দা নজরদারিতে গৃহবন্দী করা হয়।
- চিকিৎসার নামে জোরপূর্বক বিদেশ পাঠানো হয় এবং সেখানে অবস্থানকালে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়।
- এটি সমগ্র বিচার বিভাগের কাছে এক স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেয়: সরকারের আদেশের বাইরে রায় দিলে কোনো বিচারকই নিরাপদ নন।
২. নিম্ন আদালতের ওপর প্রশাসনিক খবরদারি
আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ করে নিম্ন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হরণ করা হয়। যেসব বিচারক বিরোধী নেতাদের জামিন দিতেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাস্তিমূলক বদলি করা হতো।
Public Evidence Archive
Explore all related dossiers, declassified evidence, and legal briefs.
অভিযোগনামা লাইব্রেরিতে ফিরুন →