গণআর্কাইভ · প্রামাণ্য নথিপত্র
গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ১০ দফা সনদ: একনায়কতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিরোধে অপরিহার্য সংস্কার
PUBLIC ACCOUNTABILITY ARCHIVE · DECLASSIFIED
সংস্কার ও নীতি প্রস্তাবনা
বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন আর কখনোই কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সেজন্য BAKSAL.org নিম্নলিখিত ১০ দফা মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার দাবি উপস্থাপন করছে:
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সাংবিধানিক সীমা ও মেয়াদ নির্ধারণ: কোনো ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে পারবেন না। বিচারক, নির্বাচন কমিশনার ও সাংবিধানিক পদের একতরফা নিয়োগের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী অন্তর্ভুক্তি: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক/অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভোট গণনা ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অডিট নিশ্চিত করতে হবে।
- বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন: উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য স্বাধীন ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করতে হবে। অধস্তন আদালতের প্রশাসন আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
- গোপন বন্দিশালা (আয়নাঘর) বিলোপ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত: সকল গোপন বন্দিশালা (আয়নাঘর) স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ও সিলগালা করতে হবে। বিগত দেড় দশকে সংঘটিত প্রতিটি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
- নিবর্তনমূলক সকল কালো আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল: সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট (সিএসএ) এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা খর্বকারী সকল নিবর্তনমূলক আইন নিঃশর্তভাবে বাতিল করতে হবে।
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মৌলিক সংস্কার: সংসদ সদস্যদের নিজ দলের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবেক অনুযায়ী ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করতে ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন করতে হবে।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Upper House) প্রতিষ্ঠা: সিভিল সোসাইটি, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সমন্বয়ে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে, যা একক দলের স্বেচ্ছাচারী আইন প্রণয়নে ভারসাম্য রক্ষা করবে।
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনকে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে।
- প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা আইন: পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত রাখার জন্য কঠোর নিরপেক্ষতা আইন প্রণয়ন এবং দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আমলা-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তির বিধান করতে হবে।
- পাচারকৃত জাতীয় সম্পদ উদ্ধার ও শ্বেতপত্র প্রকাশ: ট্রেড মিসইনভয়েসিং এবং ব্যাংক লুটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ বাজেয়াপ্ত ও ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধার টাস্কফোর্স (StAR Protocol) গঠন করতে হবে।
Public Evidence Archive
Explore all related dossiers, declassified evidence, and legal briefs.
অভিযোগনামা লাইব্রেরিতে ফিরুন →