গণআর্কাইভ · প্রামাণ্য নথিপত্র
বাকশাল ২.০ কি? আধুনিক একনায়কতন্ত্রের ব্যবচ্ছেদ ও সার্বভৌম নাগরিকের জাগরণ
প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্র
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়েছে তথাকথিত নির্বাচনী গণতন্ত্রের এক ভয়ানক ও প্রতারণামূলক আবরণে। বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল অটুট—নিয়মিত সংসদ বসেছে, আদালত রায় দিয়েছে, আর ক্যালেন্ডার মেনে নির্বাচনের মহড়া হয়েছে। কিন্তু এই বাহ্যিক কাঠামোর গভীরে নিঃশব্দে গড়ে তোলা হয়েছিল এক আধুনিক একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্র, যা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর হুবহু প্রতিচ্ছবি।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এক নিমেষে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় ‘বাকশাল’ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) কায়েম করা হয়েছিল এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল চারটি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা বাদে সকল স্বাধীন গণমাধ্যম। আধুনিক যুগে—২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত—সেই পুরোনো মনস্তত্ত্ব ফিরে এসেছিল আরও জটিল, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তি-নিয়ন্ত্রিত রূপে: বাকশাল ২.০।
রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের তিন প্রধান হাতিয়ার
- ভোটাধিকার ও নাগরিকের সার্বভৌমত্ব হরণ: ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচনকে পরিণত করা হয় একতরফা রাজ্যাভিষেকে—২০১৪ সালের ১৫৩টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট, এবং ২০২৪ সালের সাজানো ‘ডামি প্রার্থী’র প্রহসন তার চাক্ষুষ প্রমাণ।
- আইন ও বিচার বিভাগের নজিরবিহীন দলীয়করণ: যে বিচার বিভাগের কাজ ছিল নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সংবিধান রক্ষা করা, তাকেই বিরোধী মত দমন, ফরমায়েসি রায় প্রদান এবং লুটেরা অলিগার্কদের আইনি দায়মুক্তি দেওয়ার প্রধান অস্ত্রে পরিণত করা হয়।
- ভয়ের সার্বজনীন সংস্কৃতি ও আয়নাঘর: গুম, ক্রসফায়ার, গোপন বন্দিশালা (আয়নাঘর) এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
কেন baksal.org?
baksal.org কোনো দলীয় প্রচারপত্র নয়; এটি একটি জাতীয় স্মৃতিকোষ, অনুসন্ধানী ওয়াচডগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র। একনায়কতন্ত্র তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয় যখন জাতি ভুলে যায় কীভাবে তাদের ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অন্যায়ের স্মৃতি মুছে ফেলা এবং ইতিহাস বিকৃতিকে প্রতিহত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
আমরা সকল গবেষক, ছাত্রনেতা, সাংবাদিক ও সার্বভৌম নাগরিককে আহ্বান জানাই—সত্য উন্মোচনের এই লড়াইয়ে যুক্ত হোন এবং স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী অবসানে ঐক্যবদ্ধ হোন।
Public Evidence Archive
Explore all related dossiers, declassified evidence, and legal briefs.
অভিযোগনামা লাইব্রেরিতে ফিরুন →