গণআর্কাইভ · প্রামাণ্য নথিপত্র
১৯৭৫ থেকে ২০২৪: একদলীয় ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ও মুক্তিকামী জনতার প্রতিরোধ
PUBLIC ACCOUNTABILITY ARCHIVE · DECLASSIFIED
ইতিহাস ও রাজনৈতিক তত্ত্ব
১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী এবং ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যে একটি গভীর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক মিল রয়েছে। উভয় সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি দলের চিরস্থায়ী ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং সংবিধানকে এমনভাবে পরিবর্তিত করা যেন আইনি পথে ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন সম্ভব না হয়।
বাকশাল ১.০ বনাম বাকশাল ২.০: কাঠামোগত তুলনামূলক বিশ্লেষণ
| মূল সূচক | বাকশাল ১.০ (১৯৭৫) | বাকশাল ২.০ (২০০৯–২০২৪) |
|---|---|---|
| আইনি প্রক্রিয়া | এক ঘোষণার মাধ্যমে সরাসরি একদলীয় ব্যবস্থা ঘোষণা। | অনুচ্ছেদ ৭খ-এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক অংশকে ‘সংশোধন-অযোগ্য’ ঘোষণা করে পরোক্ষ একনায়কতন্ত্র। |
| নির্বাচনী কৌশল | সকল সাধারণ নির্বাচন সরাসরি বাতিল ও নিষিদ্ধ। | ভুয়া নির্বাচন, রাতের ভোট ও ডামি প্রার্থী তৈরি করে বহুদলীয় নির্বাচনের নাটক। |
| গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ | সরকারি ৪টি পত্রিকা বাদে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ। | দলীয় ব্যবসায়ীদের হাতে টিভি চ্যানেল/পত্রিকার মালিকানা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সেলফ-সেন্সরশিপ। |
| নিরাপত্তা বাহিনী | জাতীয় রক্ষীবাহিনী (জেআরবি)। | র্যাব, ডিজিএফআই ও বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে গুম ও আয়নাঘরের নেটওয়ার্ক। |
অনিবার্য পরিণতি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে শাসকগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সকল পথ বন্ধ করে দেয়, তারা নিজেদের পতনের পথ নিজেরাই তৈরি করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ছিল এই দেড় দশকের প্রাতিষ্ঠানিক জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ।
Public Evidence Archive
Explore all related dossiers, declassified evidence, and legal briefs.
অভিযোগনামা লাইব্রেরিতে ফিরুন →